বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন গুলো বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এর ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা। ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার জন্য এগুলো পড়তে পারেন।
১. প্রশ্ন: মোটরযান কাকে বলে?
উত্তর: সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ তে মোটরযান অর্থ কোনো যন্ত্রচালিত যানবাহন বা পরিবহণযান যাহা সড়ক, মহাসড়ক বা জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত, নির্মাণ বা অভিযোজন করা হয় এবং যাহার চালিকাশক্তি অন্য কোনো বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ উৎস হইতে সরবরাহ হইয়া থাকে এবং কোনো কাঠামো বা বডি সংযুক্ত হয় নাই এইরুপ চ্যাসিস ও ট্রেইলারও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, তবে সংস্থাপিত বা সংযুক্ত রেলের উপর দিয়া চলাচলকারী অথবা একচ্ছত্রভাবে কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান বা কারখানা বা অন্য কোনো নিজস্ব চত্বরে বা অঙ্গনে ব্যবহৃত যানবাহন অথবা মনুষ্য বা পশু দ্বারা চালিত যানবাহন ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না।
২. প্রশ্ন: মোটরযান চালনাকালে কী কী কাগজপত্র মোটরযানের সঙ্গে রাখতে হয়?
উত্তর:
ক. ড্রাইভিং লাইসেন্স,
খ. রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (ব্লু-বুক),
গ. ট্যাক্স-টোকেন,
ঘ. ফিটনেস সার্টিফিকেট (মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়) এবং
ঙ) রুটপারমিট সার্টিফিকেট (মোটরসাইকেল এবং চালক ব্যতীত সর্বোচ্চ ৭ আসন বিশিষ্ট ব্যক্তিগত যাত্রীবাহী মোটরযানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়)।
৩. প্রশ্ন: মোটরযান চালনার আগে করণীয় কাজ কী কী?
ক. ড্রাইভিং লাইসেন্স,
খ. রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (ব্লু-বুক),
গ. ট্যাক্স-টোকেন,
ঘ. ফিটনেস সার্টিফিকেট (মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়) এবং
ঙ) রুটপারমিট সার্টিফিকেট (মোটরসাইকেল এবং চালক ব্যতীত সর্বোচ্চ ৭ আসন বিশিষ্ট ব্যক্তিগত যাত্রীবাহী মোটরযানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়)।
৩. প্রশ্ন: মোটরযান চালনার আগে করণীয় কাজ কী কী?
উত্তর:
ক. মোটরযানে জ্বালানি আছে কি না পরীক্ষা করা, না থাকলে পরিমাণ মতো নেওয়া;
খ. রেডিয়েটর ও ব্যাটারিতে পানি আছে কি না পরীক্ষা করা, না থাকলে পরিমাণ মতো নেওয়া;
গ. ব্যাটারি কানেকশন পরীক্ষা করা;
ঘ. লুব/ইঞ্জিন অয়েলের লেবেল ও ঘনত্ব পরীক্ষা করা, কম থাকলে পরিমাণ মতো নেওয়া;
ঙ. মাস্টার সিলিন্ডারের ব্রেক ফ্লুইড, ব্রেক অয়েল পরীক্ষা করা, কম থাকলে নেওয়া;
চ. মোটরযানের ইঞ্জিন, লাইটিং সিস্টেম, ব্যাটারি, স্টিয়ারিং ইত্যাদি সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা, নাট-বোল্ট টাইট আছে কিনা অর্থাৎ সার্বিকভাবে মোটরযানটি ত্রুটিমুক্ত আছে কিনা পরীক্ষা করা;
ছ. ব্রেক ও ক্লাচের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা :
জ. অগ্নি-নির্বাপকযন্ত্র এবং ফাস্ট-এইড বক্স মোটরযানে রাখা;
ঝ. মোটরযানের বাইরের এবং ভিতরের বাতির অবস্থা, চাকা (টায়ার কন্ডিশন/হাওয়া/নাট/এলাইনমেন্ট/রোটেশন/ স্পেয়ার চাকা) পরীক্ষা করা।
৪. প্রশ্ন: সার্ভিসিং বলতে কী বুঝায় এবং মোটরযান সার্ভিসিংয়ে কী কী কাজ করা হয়?
খ. রেডিয়েটর ও ব্যাটারিতে পানি আছে কি না পরীক্ষা করা, না থাকলে পরিমাণ মতো নেওয়া;
গ. ব্যাটারি কানেকশন পরীক্ষা করা;
ঘ. লুব/ইঞ্জিন অয়েলের লেবেল ও ঘনত্ব পরীক্ষা করা, কম থাকলে পরিমাণ মতো নেওয়া;
ঙ. মাস্টার সিলিন্ডারের ব্রেক ফ্লুইড, ব্রেক অয়েল পরীক্ষা করা, কম থাকলে নেওয়া;
চ. মোটরযানের ইঞ্জিন, লাইটিং সিস্টেম, ব্যাটারি, স্টিয়ারিং ইত্যাদি সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা, নাট-বোল্ট টাইট আছে কিনা অর্থাৎ সার্বিকভাবে মোটরযানটি ত্রুটিমুক্ত আছে কিনা পরীক্ষা করা;
ছ. ব্রেক ও ক্লাচের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা :
জ. অগ্নি-নির্বাপকযন্ত্র এবং ফাস্ট-এইড বক্স মোটরযানে রাখা;
ঝ. মোটরযানের বাইরের এবং ভিতরের বাতির অবস্থা, চাকা (টায়ার কন্ডিশন/হাওয়া/নাট/এলাইনমেন্ট/রোটেশন/ স্পেয়ার চাকা) পরীক্ষা করা।
৪. প্রশ্ন: সার্ভিসিং বলতে কী বুঝায় এবং মোটরযান সার্ভিসিংয়ে কী কী কাজ করা হয়?
উত্তর: মোটরযানের ইঞ্জিন ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশের কার্যক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য নির্দিষ্ট সময় পরপর যে-কাজগুলো করা হয়, তাকে সার্ভিসিং বলে। মোটরযান সার্ভিসিংয়ে করণীয় কাজ:
ক. ইঞ্জিনের পুরাতন লুব অয়েল (মবিল) ফেলে দিয়ে নতুন লুব অয়েল দেওয়া। নতুন লুব অয়েল দেওয়ার আগে ফ্লাশিং অয়েল দ্বারা ফ্লাশ করা।
খ. ইঞ্জিন ও রেডিয়েটরের পানি ড্রেন আউট করে ডিটারজেন্ট ও ফ্লাশিংগান দিয়ে পরিষ্কার করা, অতঃপর পরষ্কিার পানি দিয়ে পূর্ণ করা।
গ. ভারী মোটরযানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন গ্রিজিং পয়েন্টে গ্রিজগান দিয়ে নতুন গ্রিজ দেওয়া।
ঘ. মোটরযানের স্পেয়ার হুইলসহ প্রতিটি চাকাতে পরিমাণমতো হাওয়া দেওয়া।
ঙ. লুব অয়েল (মবিল) ফিল্টার, ফুয়েল ফিল্টার ও এয়ারক্লিনার পরিবর্তন করা।
৫. প্রশ্ন: রাস্তার মোটরযানের কাগজপত্র কে কে চেক করতে পারেন/কোন কোন ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণকে মোটরযানের কাগজ দেখাতে বাধ্য?
৬. প্রশ্ন: মোটরসাইকেলে হেলমেট পরিধান ও আরোহী বহন সম্পর্কে আইন কী?
৭. প্রশ্ন: সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ কী কী?
উত্তর:
ক. ইঞ্জিনের পুরাতন লুব অয়েল (মবিল) ফেলে দিয়ে নতুন লুব অয়েল দেওয়া। নতুন লুব অয়েল দেওয়ার আগে ফ্লাশিং অয়েল দ্বারা ফ্লাশ করা।
খ. ইঞ্জিন ও রেডিয়েটরের পানি ড্রেন আউট করে ডিটারজেন্ট ও ফ্লাশিংগান দিয়ে পরিষ্কার করা, অতঃপর পরষ্কিার পানি দিয়ে পূর্ণ করা।
গ. ভারী মোটরযানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন গ্রিজিং পয়েন্টে গ্রিজগান দিয়ে নতুন গ্রিজ দেওয়া।
ঘ. মোটরযানের স্পেয়ার হুইলসহ প্রতিটি চাকাতে পরিমাণমতো হাওয়া দেওয়া।
ঙ. লুব অয়েল (মবিল) ফিল্টার, ফুয়েল ফিল্টার ও এয়ারক্লিনার পরিবর্তন করা।
৫. প্রশ্ন: রাস্তার মোটরযানের কাগজপত্র কে কে চেক করতে পারেন/কোন কোন ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণকে মোটরযানের কাগজ দেখাতে বাধ্য?
উত্তর: সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ধারা ১০৯ অনুযায়ী সাব-ইন্সপেক্টর বা সার্জেন্ট পদমর্যাদার নিচে নয় এমন কোনো পুলিশ অফিসার বা, ক্ষেত্রমত, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো মোটরযান পরিদর্শক বা অন্য কোনো ব্যক্তির চাহিদা মোতাবেক কোনো চালক মোটরযান থামাতে এবং মোটরযানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শন করতে বাধ্য থাকবেন।
৬. প্রশ্ন: মোটরসাইকেলে হেলমেট পরিধান ও আরোহী বহন সম্পর্কে আইন কী?
উত্তর: চালক ব্যতীত মোটরসাইকেলে একজনের অধিক সহযাত্রী বহন করা যাবে না এবং চালক ও সহযাত্রী উভয়কে যথাযথভাবে হেলমেট ব্যবহার করতে হবে; [সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ধারা-৪৯ (চ)]।
৭. প্রশ্ন: সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ কী কী?
উত্তর:
ক. অতিরিক্ত আত্নবিশ্বাস,
খ. মাত্রাতিরিক্ত গতিতে মোটরযান চালানো,
গ. অননুমোদিত ওভারিটেকিং,
ঘ. অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন, ইত্যাদি।
৮. প্রশ্ন: মোটরযান দুর্ঘটনায় পতিত হলে মোটরযান চালক, কন্ডাক্টর বা তাদের প্রতিনিধি'র করণীয় কী?
উত্তর:
৮. প্রশ্ন: মোটরযান দুর্ঘটনায় পতিত হলে মোটরযান চালক, কন্ডাক্টর বা তাদের প্রতিনিধি'র করণীয় কী?
উত্তর:
(১) কোনো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটিলে সংশ্লিষ্ট মোটরযান চালক, কন্ডাক্টর বা তাদের প্রতিনিধি তাৎক্ষনিকভাবে দুর্ঘটনা সম্পর্কে নিকটস্থ থানা এবং ক্ষেত্রমত, ফায়ার সার্ভিস, চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র বা হাসপাতালকে অবহিত করবেন এবং আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির জীবন রক্ষার্থে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিকটস্থ চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র বা হাসপাতালে প্রেরণ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
(২) বাংলাদেশ পুলিশ দেশব্যাপী টোল ফ্রি টেলিফোন নম্বর প্রবর্তন করবে, যার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা কবলিত মোটরযানের চালক, কন্ডাক্টর, মালিক, প্রতিষ্ঠান বা পরিচালনাকারী বা তাদের প্রতিনিধি বা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি বা যাত্রী বা সড়ক দুর্ঘটনা প্রত্যক্ষকারী কোনো ব্যক্তি দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নম্বরে টেলিফোন করিয়া জরুরি উদ্ধার, চিকিৎসা ইত্যাদির জন্য তাৎক্ষণিক সহায়তা চাইতে পারবেন [সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ধারা-৬২ (১ ও ২)]।
৯. প্রশ্ন: (ক) মহাসড়কে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী মোটরযানের সর্বোচ্চ গতিসীমা কত?
উত্তর: যাত্রীবাহী মোটরযানের সর্বোচ্চ গতি ঘন্টায় ৮০ কিলোমিটার এবং পণ্যবাহী মোটরযানের সর্বোচ্চ গতি ঘন্টায় ৬০ কিলোমিটার (মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্ত মোতাবেক)।
প্রশ্ন: (খ) শীতকালে কুয়াশাচ্ছন্ন রাস্তায় ফগলাইট জ্বালানো অবস্থায় মোটরযানের সর্বোচ্চ গতিসীমা কত?
উত্তর: ঘন্টায় ৪০ কিলোমিটার (জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ২৪তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক)।
১০. প্রশ্ন: ড্রাইভিং লাইসেন্স কী?
উত্তর: ড্রাইভিং লাইসেন্স অর্থ কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির মোটরযান চালাইবার জন্য কোনো ব্যক্তিকে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্স।
১১. প্রশ্ন: পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স কাকে বলে?
উত্তর: পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স অর্থ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত ড্রাইভিং লাইসেন্স, যাহা দ্বারা কোনো ব্যক্তি একজন বেতনভোগী কর্মচারী হিসাবে মোটরযান বা গণপরিবহন চালাইবার অধিকারী হন।
১২. প্রশ্ন: ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন বয়স কত?
উত্তর: সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ধারা-৬ (২) (ক) অনুযায়ী অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে বয়স অন্যূন ১৮ (আঠার) বৎসর এবং পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে বয়স অন্যূন ২১ (একুশ) বৎসর।
১৩. প্রশ্ন: কোন কোন ব্যক্তি ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে?
উত্তর: সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ধারা-১২ (১) অনুযায়ী অসুস্থ, অপ্রকৃতিস্থ, শারীরিক বা মানসিকভাবে অক্ষম, মদ্যপ, অভ্যাসগত অপরাধী বা অন্য কোনো কারণে মোটরযান চালাইতে অযোগ্য হলে এমন ব্যক্তি।
১৪. প্রশ্ন: হালকা মোটরযান কাকে বলে?
উত্তর: হালকা মোটরযান অর্থ এইরূপ কোনো মোটরযান বা মোটরযান ও ট্রেইলারের কম্বিনেশন, যাহার নিবন্ধিত লেডেন ওজন, অথবা কোনো ট্রাক্টর বা রোড রোলার, যাহার আনলেডেন ওজন ৭৫০০ কিলোগ্রামের অধিক নহে।
১৫. প্রশ্ন: মধ্যম বা মাঝারি মোটরযান কাকে বলে?
উত্তর: “মধ্যম মোটরযান” অর্থ এইরুপ কোনো মোটরযান বা মোটরযান ও ট্রেইলারের কম্বিনেশন যাহার নিবন্ধিত লেডেন বা বোঝাইকৃত বা ভারসহ ওজন বা মোটরযানের ট্রেইল বা শ্রেণিবদ্ধ ওজন, অথবা কোনো লোকোমোটিভ বা রোড রোলার যাহার আনলেডেন বা ভারবিহীন বা অ-বোঝাইকৃত ওজন ৭৫০১ হইতে ১২০০০ কিলোগ্রাম।
১৬. প্রশ্ন: ভারী মোটরযান কাকে বলে?
উত্তর: ভারী মোটরযান অর্থ এইরুপ কোনো মোটরযান ও ট্রেইলরের কম্বিনেশন যাহার নিবন্ধিত লেডেন বা বোঝাইকৃত বা ভারসহ ওজন বা যাহার ট্রেইল বা শ্রেণিবদ্ধ ওজন, অথবা কোনো লোকোমোটিভ বা রোড রোলার যাহার আনলেডেন বা ভারবিহীন বা অ-বোঝাইকৃত ওজন ১২,০০০ (বারো হাজার) কিলোগ্রামের অধিক।
১৭. প্রশ্ন: গণপরিবহন কাকে বলে?
উত্তর: গণপরিবহন অর্থ ভাড়ার বিনিময়ে যাত্রী পরিবহণের জন্য ব্যবহৃত বা ব্যবহারের জন্য উপযোগী যে কোনো মোটরযান।
১৮. প্রশ্ন: ট্রাফিক সাইন বা রোড সাইন (চিহ্ন) প্রধানত কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর: ট্রাফিক সাইন বা চিহ্ন প্রধানত তিন প্রকার:
ক. বাধ্যতামূলক, যা প্রধানত বৃত্তাকৃতির হয়;
খ. সতর্কতামূলক, যা প্রধানত ত্রিভুজাকৃতির হয় এবং
ক. বাধ্যতামূলক, যা প্রধানত বৃত্তাকৃতির হয়;
খ. সতর্কতামূলক, যা প্রধানত ত্রিভুজাকৃতির হয় এবং
গ. তথ্যমূলক, যা প্রধানত আয়তক্ষেত্রাকার হয়।
১৯. প্রশ্ন: লাল বৃত্তাকার সাইন কী নির্দেশনা প্রদর্শন করে?
উত্তর: নিষেধ বা করা যাবে না, অবশ্যবর্জনীয় নিদের্শনা প্রদর্শন করে।
২০. প্রশ্ন: নীল বৃত্তাকার সাইন কী নির্দেশনা প্রদর্শন করে?
উত্তর: করতে হবে বা অবশ্যপালনীয় নির্দেশনা প্রদর্শন করে।
২১. প্রশ্ন: লাল ত্রিভুজাকৃতির সাইন কী নির্দেশনা প্রদর্শন করে?
উত্তর: সতর্ক হওয়ার নির্দেশনা প্রদর্শন করে।
২২. প্রশ্ন: নীল রঙের আয়তক্ষেত্র কোন ধরনের সাইন?
উত্তর: সাধারণ তথ্যমূলক সাইন।
২৩. প্রশ্ন: সবুজ রঙের আয়তক্ষেত্র কোন ধরণের সাইন?
উত্তর: পথনির্দেশক তথ্যমূলক সাইন, যা জাতীয় মহাসড়কে ব্যবহৃত হয়।
২৪. প্রশ্ন: কালো বর্ডারের সাদা রঙের আয়তক্ষেত্র কোন ধরনের সাইন?
উত্তর: এটিও পথনির্দেশক তথ্যমূলক সাইন, যা মহাসড়ক ব্যতীত অন্যান্য সড়কে ব্যবহৃত হয়।
২৫. প্রশ্ন: ট্রাফিক সিগন্যাল বা সংকেত কত প্রকার ও কী কী?
২৫. প্রশ্ন: ট্রাফিক সিগন্যাল বা সংকেত কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর: ৩ (তিন) প্রকার। যেমন- ক. বাহুর সংকেত, খ. আলোর সংকেত ও গ. শব্দ সংকেত।
২৬. প্রশ্ন: ট্রাফিক লাইট সিগন্যালের চক্র বা অনুক্রম (Sequence) গুলি কী কী?
উত্তর: লাল-সবুজ-হলুদ এবং পুনরায় লাল ।
২৭. প্রশ্ন: লাল, সবুজ ও হলুদ বাতি কী নির্দেশনা প্রদর্শন করে?
উত্তর: লাল বাতি জ্বললে মোটরযানকে ‘থামুন লাইন' এর পেছনে থামায়ে অপেক্ষা করতে হবে, সবুজ বাতি জ্বললে মোটরযান নিয়ে অগ্রসর হওয়া যাবে এবং হলুদ বাতি জ্বললে মোটরযানকে থামানোর জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।
২৮. প্রশ্ন: নিরাপদ দূরত্ব বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: সামনের মোটরযানের সাথে সংঘর্ষ এড়াতে পেছনের মোটরযানকে নিরাপদে থামানোর জন্য যে পরিমাণ দূরত্ব বজায় রেখে মোটরযান চালাতে হয় সেই পরিমাণ নিরাপদ দূরত্ব বলে।
২৯. প্রশ্ন: পাকা ও ভালো রাস্তায় ৫০ কিলোমিটার গতিতে মোটরযান চললে নিরাপদ দূরত্ব কত হবে?
উত্তর: ২৫ মিটার।
৩০. প্রশ্ন: পাকা ও ভালো রাস্তায় ৫০ মাইল গতিতে মোটরযান চললে নিরাপদ দূরত্ব কত হবে?
উত্তর: ৫০ গজ বা ১৫০ ফুট।
৩১. প্রশ্ন: লাল বৃত্তে ৫০ কি.মি. লেখা থাকলে কী বুঝায়?
উত্তর: মোটরযানের সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৫০ কি.মি. অর্থাৎ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে মোটরযান চালানো যাবে না।
৩২. প্রশ্ন: নীল বৃত্তে ঘণ্টায় ৫০ কি.মি. লেখা থাকলে কী বুঝায়?
উত্তর: সর্বনিম্ন গতিসীমা ঘণ্টায় ৫০ কি. মি. অর্থাৎ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটারের কম গতিতে মোটরযান চালানো যাবে না।
৩৩. প্রশ্ন: লাল বৃত্তের মধ্যে হর্ণ আঁকা থাকলে কী বুঝায় ?
উত্তর: হর্ণ বাজানো নিষেধ।
৩৪. প্রশ্ন: লাল বৃত্তের ভিতরের একটি বড় বাসের ছবি থাকলে কী বুঝায় ?
উত্তর: বড় বাস প্রবেশ নিষেধ।
৩৫. প্রশ্ন: লাল বৃত্তে একজন চলমান মানুষের ছবি আঁকা থাকলে কী বুঝায় ?
উত্তর: পথচারী পারাপার নিষেধ।
৩৬. প্রশ্ন: লাল ত্রিভুজে একজন চলমান মানুষের ছবি আঁকা থাকলে কী বুঝায়?
উত্তর: সামনে পথচারী পারাপার, তাই সাবধান হতে হবে।
৩৭. প্রশ্ন: লাল বৃত্তের ভিতর একটি লাল ও একটি কালো মোটরযান থাকলে কী বুঝায়?
উত্তর: ওভারটেকিং নিষেধ।
৩৮. প্রশ্ন: কোন কোন স্থানে মোটরযানের হর্ণ বাজানো নিষেধ?
৩৮. প্রশ্ন: কোন কোন স্থানে মোটরযানের হর্ণ বাজানো নিষেধ?
উত্তর: নীরব এলাকায় মোটরযানের হর্ণ বাজানো নিষেধ। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত বা অনুরূপ প্রতিষ্ঠানসমূহের চতুর্দিকে ১০০ মিটার পর্যন্ত এলাকা নীরব এলাকা হিসাবে চিহ্নিত।
৩৯. প্রশ্ন: ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ এর ধারা-৪ অনুযায়ী পাবলিক পরিবহনে ধূমপান করলে শাস্তি কি?
উত্তর: কোনো ব্যক্তি পাবলিক পরিবহনে ধূমপান করিলে তিনি অনধিক তিনশত টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং উক্ত ব্যক্তি দ্বিতীয়বার বা পুনঃ পুনঃ বা একই ধরনের অপরাধ সংঘটন করিলে তিনি পর্যায়ক্রমিকভাবে উক্ত দণ্ডের দ্বিগুন হারে দণ্ডনীয় হইবেন।
৪০. প্রশ্ন: কোন কোন স্থানে ওভারটেক করা নিষেধ?
উত্তর:
ক. ওভারটেকিং নিষেধ সম্বলিত সাইন থাকে এমন স্থানে,
খ. জাংশনে,
ঘ. সরু রাস্তায়,
গ. ব্রিজ/কালভার্ট ও তার আগে পরে নির্দিষ্ট দূরত্ব,
ঙ. হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এলাকায়।
খ. জাংশনে,
ঘ. সরু রাস্তায়,
গ. ব্রিজ/কালভার্ট ও তার আগে পরে নির্দিষ্ট দূরত্ব,
ঙ. হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এলাকায়।
৪১. প্রশ্ন: কোন কোন স্থানে মোটরযান পার্কিং করা নিষেধ?
উত্তর:
ক. যেখানে পার্কিং নিষেধ বোর্ড আছে এমন স্থানে,
খ. জাংশনে,
গ. ব্রিজ/কালভার্টের ওপর,
ঘ. সরু রাস্তায়,
ঙ. হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এলাকায়,
চ. পাহাড়ের ঢালে ও ঢালু রাস্তায়, ফুটপাত, পথচারী পারাপার এবং তার আশেপাশে,
ছ. বাস স্টপেজ ও তার আশেপাশে এবং
চ. পাহাড়ের ঢালে ও ঢালু রাস্তায়, ফুটপাত, পথচারী পারাপার এবং তার আশেপাশে,
ছ. বাস স্টপেজ ও তার আশেপাশে এবং
জ. রেলক্রসিং ও তার আশেপাশে।
৪২. প্রশ্ন: মোটরযান রাস্তার কোনপাশ দিয়ে চলাচল করবে?
উত্তর: মোটরযান রাস্তার বামপাশ দিয়ে চলাচল করবে। যে-রাস্তায় একাধিক লেন থাকবে সেখানে বামপাশের লেনে ধীর গতির মোটরযান, আর ডানপাশের লেনে দ্রুত গতির মোটরযান চলাচল করবে।
৪৩. প্রশ্ন: কখন বামদিক দিয়ে ওভারটেক করা যায়?
উত্তর: যখন সামনের মোটরযান চালক ডানদিকে মোড় নেওয়ার ইচ্ছায় যথাযথ সংকেত দিয়ে রাস্তার মাঝামাঝি স্থানে যেতে থাকবেন, তখনই পেছনের মোটরযানের চালক বামদিক দিয়ে ওভারটেক করবেন।
৪৪. প্রশ্ন: চলন্ত অবস্থায় সামনের মোটরযানকে অনুসরণ করার সময় কী কী বিষয় লক্ষ্য রাখা উচিত?
উত্তর:
(ক) সামনের মোটরযানের গতি (স্পিড),
(খ) সামনের মোটরযান থামার সংকেত দিচ্ছে কি না,
(গ) সামনের মোটরযান ডানে/বামে ঘুরার সংকেত দিচ্ছে কি না,
(ঘ) সামনের মোটরযান হতে নিরাপদ দূরত্ব বজায় থাকছে কি না।
৪৫. প্রশ্ন: রাস্তার পাশে সতর্কতামূলক “স্কুল/শিশু” সাইন বোর্ড থাকলে চালকের করণীয় কী?
উত্তর:
(ক) মোটরযানের গতি কমিয়ে রাস্তার দু-পাশে ভালোভাবে দেখে-শুনে সতর্কতার সাথে অগ্রসর হতে হবে।
(খ) রাস্তা পারাপারের অপেক্ষায় কোনো শিশু থাকলে তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
(খ) রাস্তা পারাপারের অপেক্ষায় কোনো শিশু থাকলে তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
৪৬. প্রশ্ন: মোটরযানের গতি কমানোর জন্য চালক হাত দিয়ে কীভাবে সংকেত দিবেন?
উত্তর: চালক তাঁর ডানহাত মোটরযানের জানালা দিয়ে সোজাসুজি বের করে ধীরে ধীরে উপরে-নীচে উঠানামা করাতে থাকবেন।
৪৭. প্রশ্ন: লেভেলক্রসিং বা রেলক্রসিং কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর: লেভেলক্রসিং বা রেলক্রসিং ২ (দুই) প্রকার।
(ক) রক্ষিত রেলক্রসিং বা পাহারাদার নিয়ন্ত্রিত রেলক্রসিং,
(ক) রক্ষিত রেলক্রসিং বা পাহারাদার নিয়ন্ত্রিত রেলক্রসিং,
(খ) অরক্ষিত রেলক্রসিং বা পাহারাদারবিহীন রেলক্রসিং।
৪৮. প্রশ্ন: রক্ষিত লেভেলক্রসিংয়ে চালকের কর্তব্য কী?
উত্তর: মোটরযানের গতি কমিয়ে সতর্কতার সাথে সামনে আগাতে হবে। যদি রাস্তার বন্ধ থাকে, তাহলে মোটরযান থামাতে হবে, আর খোলা থাকলে ডানে-বামে ভালোভাবে দেখে অতিক্রম করতে হবে।
৪৯. প্রশ্ন: অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে চালকের কর্তব্য কী ?
উত্তর: মোটরযানের গতি একদম কমিয়ে সতর্কতার সাথে সামনে আগাতে হবে, প্রয়োজনে লেভেল ক্রসিংয়ের নিকট থামাতে হবে। এরপর ডানে-বামে দেখে নিরাপদ মনে হলে অতিক্রম করতে হবে।
৫০. প্রশ্ন: বিমানবন্দরের কাছে চালককে সতর্ক থাকতে হবে কেন?
উত্তর:
(ক) বিমানের প্রচন্ড শব্দে মোটরযানের চালক হঠাৎ বিচলিত হতে পারেন;
(ক) বিমানের প্রচন্ড শব্দে মোটরযানের চালক হঠাৎ বিচলিত হতে পারেন;
(খ) সাধারণ শ্রবণ ক্ষমতার ব্যাঘাত ঘটতে পারে;
(গ) বিমানবন্দরে ভিভিআইপি বেশি চলাচল করে বিধায় এই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হয়।
৫১. প্রশ্ন: মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীর হেলমেট ব্যবহার করা উচিত কেন?
উত্তর: মানুষের মাথা শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। এখানে সামান্য আঘাত লাগলেই মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে। তাই দুর্ঘটনার হাত থেকে মানুষের মাথাকে রক্ষা করার জন্য গুণগতমান সম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার করা উচিত।
উত্তর: মানুষের মাথা শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। এখানে সামান্য আঘাত লাগলেই মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে। তাই দুর্ঘটনার হাত থেকে মানুষের মাথাকে রক্ষা করার জন্য গুণগতমান সম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার করা উচিত।
৫২. প্রশ্ন: মোটরযানের পেছনের অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য কতক্ষণ পর পর লুকিং গ্লাস দেখতে হবে ?
উত্তর: প্রতি মিনিটে ৬ থেকে ৮ বার।
৫৩. প্রশ্ন: পাহাড়ি রাস্তায় কী কী সতর্কতা অবলম্বন করতে হয় ?
উত্তর: সামনের মোটরযান থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ১ নং গিয়ারে বা ফার্স্ট গিয়ারে সতর্কতার সাথে ধীরে ধীরে ওপরে উঠতে হবে। পাহাড়ের চূড়ার কাছে গিয়ে আরো ধীরে উঠতে হবে, কারণ চূড়ায় দৃষ্টিসীমা অত্যন্ত সীমিত। নিচে নামার সময় মোটরযানের গতি ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে বিধায় সামনের মোটরযান থেকে বাড়তি দূরত্ব বজায় রেখে নামতে হবে। ওঠা-নামার সময় কোনোক্রমেই ওভারটেকিং করা যাবে না।
৫৪. প্রশ্ন: বৃষ্টির মধ্যে মোটরযানের চালনার বিষয়ে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করতে হয় ?
উত্তর: বৃষ্টির সময় রাস্তা পিচ্ছিল থাকায় ব্রেক কম কাজ করে। এই কারণে বাড়তি সতর্কতা হিসাবে ধীর গতিতে (সাধারণ গতির চেয়ে অর্ধেক গতিতে) মোটরযান চালাতে হবে, যাতে ব্রেক প্রয়োগ করে অতি সহজেই মোটরযান থামানো যায়। অর্থাৎ ব্রেক প্রয়োগ করে মোটরযান যাতে অতি সহজেই থামানো বা নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেইরূপ ধীর গতিতে বৃষ্টির মধ্যে মোটরযান চালাতে হবে।
৫৫. প্রশ্ন: ব্রিজে ওঠার পূর্বে একজন চালকের করণীয় কী?
উত্তর: ব্রিজ বিশেষ করে উঁচু ব্রিজের অপরপ্রান্ত থেকে আগত মোটরযান সহজে দৃষ্টিগোচর হয় না বিধায় ব্রিজে ওঠার পূর্বে সতর্কতার সাথে মোটরযানের গতি কমিয়ে উঠতে হবে। তাছাড়া, রাস্তার তুলনায় ব্রিজের প্রস্থ অনেক কম হয় বিধায় ব্রিজে কখনো ওভারটেকিং করা যাবে না।
৫৬. প্রশ্ন: পার্শ্ব রাস্তা থেকে প্রধান রাস্তার প্রবেশ করার সময় কী কী সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়?
উত্তর: পার্শ্ব রাস্তা বা ছোট রাস্তা থোকে প্রধান রাস্তার প্রবেশ করার আগে মোটরযানের গতি কমায়ে, প্রয়োজনে থামায়ে, প্রধান রাস্তার মোটরযানকে নির্বিঘ্নে আগে যেতে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রধান সড়কে মোটরযানের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে সুযোগমত সতর্কতার সাথে প্রধান রাস্তায় প্রবেশ করতে হবে।
৫৭. প্রশ্ন: রাস্তার ওপর প্রধানত কী কী ধরনের রোডমার্কিং অঙ্কিত থাকে?
উত্তর: রাস্তার ওপর প্রধানত ৩ ধরনের রোডমার্কিং অঙ্কিত থাকে।
ক. ভাঙালাইন, যা অতিক্রম করা যায়;
খ. একক অখন্ডলাইন, যা অতিক্রম করা নিষেধ, তবে প্রয়োজন বিশেষ অতিক্রম করা যায়;
গ. দ্বৈত অখন্ডলাইন, যা অতিক্রম করা নিষেধ এবং আইনত দন্ডনীয়। এই ধরনের লাইন দিয়ে ট্রাফিক আইল্যান্ড বা রাস্তার বিভক্তি বুঝায় ।
ক. ভাঙালাইন, যা অতিক্রম করা যায়;
খ. একক অখন্ডলাইন, যা অতিক্রম করা নিষেধ, তবে প্রয়োজন বিশেষ অতিক্রম করা যায়;
গ. দ্বৈত অখন্ডলাইন, যা অতিক্রম করা নিষেধ এবং আইনত দন্ডনীয়। এই ধরনের লাইন দিয়ে ট্রাফিক আইল্যান্ড বা রাস্তার বিভক্তি বুঝায় ।
৫৮. প্রশ্ন: জেব্রা ক্রসিংয়ে চালকের কর্তব্য কী?
উত্তর: জেব্রা ক্রসিংয়ে পথচারীদের অবশ্যই আগে যেতে দিতে হবে এবং পথচারী যখন জেব্রা ক্রসিং দিয়ে পারাপার হবে তখন মোটরযানকে অবশ্যই তার আগে থামাতে হবে। জেব্রা ক্রসিংয়ের ওপর মোটরযানকে থামানো যাবে না বা রাখা যাবে না।
৫৯. প্রশ্ন: কোন কোন মোটরযানকে ওভারটেক করার সুযোগ দিতে হবে?
উত্তর: যে মোটরযানের গতি বেশি, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস ইত্যাদি জরুরি সার্ভিস, ভিভিআইপি মোটরযান ইত্যাদিকে।
৬০. প্রশ্ন: হেড লাইট ফ্লাশিং বা আপার ডিপার ব্যবহারের নিয়ম কী?
উত্তর: শহরের মধ্যে সাধারণত ‘লো বিম বা ডিপার বা মৃদু বিম' ব্যবহার করা হয়। রাতে কাছাকাছি মোটরযান না থাকলে অর্থাৎ বেশিদূর পর্যন্ত দেখার জন্য হাইওয়ে ও শহরের বাইরের রাস্তার ‘হাই আপার বা তীক্ষ্ম বিম' ব্যবহার করা হয়। তবে, বিপরীত দিক থেকে আগত মোটরযান ১৫০ মিটারের মধ্যে চলে আসলে হাই বিম নিভিয়ে লো বিম জ্বালাতে হবে। অর্থাৎ বিপরীত দিক হতে আগত কোনো মোটরযানকে পার হওয়ার সময় লো বিম জ্বালাতে হবে।
৬১. প্রশ্ন: মোটরযানের ব্রেক ফেল করলে করণীয় কী?
উত্তর: মোটরযানের ব্রেক ফেল করলে প্রথমে অ্যাক্সিলারেটর থেকে পা সরিয়ে নিতে হবে। ম্যানুয়াল গিয়ার মোটরযানের ক্ষেত্রে গিয়ার পরিবর্তন করে প্রথমে দ্বিতীয় গিয়ার ও পরে প্রথম গিয়ার ব্যবহার করতে হবে। এর ফলে মোটরযানের গতি অনেক কমে যাবে। এই পদ্ধতিতে মোটরযান থামানো সম্ভব না হলে রাস্তার আইল্যান্ড, ডিভাইডার, ফুটপাত বা সুবিধামত অন্যকিছুর সাথে ঠেকিয়ে মোটরযান থামাতে হবে। ঠেকানোর সময় যানমালের ক্ষয়ক্ষতি যেনো না হয় বা কম হয় সেইদিকে সজাগ থাকতে হবে।
৬২. প্রশ্ন: মোটরযানের চাকা ফেটে গেলে করণীয় কী?
উত্তর: মোটরযানের চাকা ফেটে গেলে মোটরযান নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। এই সময় মোটরযানের চালককে স্টিয়ারিং দৃঢ়ভাবে ধরে রাখতে হবে এবং অ্যাক্সিলারেটর থেকে পা সরিয়ে ক্রমান্বয়ে গতি কমিয়ে আস্তে আস্তে ব্রেক করে মোটরযান থামাতে হবে। চলন্ত অবস্থায় মোটরযানের চাকা ফেটে গেলে সাথে সাথে ব্রেক করা যাবে না। এতে মোটরযান নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে।
৬৩. প্রশ্ন: হ্যাজার্ড বা বিপদ সংকেত বাতি কী?
উত্তর: প্রতিটি মোটরযানের সামনে ও পিছনে উভয় পাশের কর্ণারে একজোড়া করে মোট দুজোড়া ইন্ডিকেটর বাতি থাকে। এই চারটি ইন্ডিকেটর বাতি সবগুলো একসাথে জ্বললে এবং নিভলে তাকে হ্যাজার্ড বা বিপদ সংকেত বাতি বলে। বিপজ্জনক মুহূর্তে, মোটরযান বিকল হলে এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এই বাতিগুলো ব্যবহার করা হয়।
৬৪. প্রশ্ন: মোটরযানের ড্যাশবোর্ডে কী কী ইন্সট্রুমেন্ট থাকে?
উত্তর:
ক. স্পিডোমিটার- মোটরযান কত বেগে চলছে তা দেখায়;
খ. ওডেমিটার- তৈরির প্রথম থেকে মোটরযান কত কিলোমিটার বা মাইল চলছে তা দেখায়;
গ. ট্রিপমিটার- এক ট্রিপে মোটরযান কত কিলোমিটার/মাইল চলে তা দেখায়;
ঘ. টেম্পারেচার গেজ- ইঞ্জিনের তাপমাত্রা দেখায়;
ঙ. ফুয়েল গেজ-মোটরযানের তেলের পরিমাণ দেখায়।
৬৫. প্রশ্ন: মোটরযানে কী কী লাইট থাকে?
খ. ওডেমিটার- তৈরির প্রথম থেকে মোটরযান কত কিলোমিটার বা মাইল চলছে তা দেখায়;
গ. ট্রিপমিটার- এক ট্রিপে মোটরযান কত কিলোমিটার/মাইল চলে তা দেখায়;
ঘ. টেম্পারেচার গেজ- ইঞ্জিনের তাপমাত্রা দেখায়;
ঙ. ফুয়েল গেজ-মোটরযানের তেলের পরিমাণ দেখায়।
৬৫. প্রশ্ন: মোটরযানে কী কী লাইট থাকে?
উত্তর: ক. হেড লাইট, খ. পার্ক লাইট, গ. ব্রেক লাইট, ঘ. রিভার্স লাইট ঙ. ইন্ডিকেটরলাইট, চ. ফগ লাইট এবং
ছ. নম্বরপ্লেট লাইট।
৬৬. প্রশ্ন: পাহাড়ি ও ঢাল/চূড়াযুক্ত রাস্তায় মোটরযান কোন গিয়ারে চালাতে হয়?
উত্তর: ফার্স্ট গিয়ারে। কারণ ফার্স্ট গিয়ারে মোটরযান চালানোর জন্য ইঞ্জিনের শক্তি বেশি প্রয়োজন হয়।
৬৭. প্রশ্ন: মোটরযানের সামনে ও পিছনে লাল রঙের ইংরেজি “L” অক্ষরটি বড় আকারে লেখা থাকলে এর দ্বারা কী বুঝায়?
উত্তর: এটি একটি শিক্ষানবিশ ড্রাইভার চালিত মোটরযান। এই মোটরযান হতে সাবধান থাকতে হবে।
৬৮. প্রশ্ন: শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে মোটরযান চালানো বৈধ কী?
উত্তর: ইনসট্রাক্টরের উপস্থিতিতে ডুয়েল সিস্টেম (ডাবল স্টিয়ারিং ও ব্রেক) সম্বলিত মোটরযান নিয়ে সামনে ও পিছনে “L” লেখা প্রদর্শন করে নির্ধারিত এলাকায় চালানো বৈধ।
৬৯. প্রশ্ন: ফোর হুইল ড্রাইভ মোটরযান বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: সাধারণত ইঞ্জিন হতে মোটরযানের পেছনের দু-চাকায় পাওয়ার (ক্ষমতা) সরবরাহ হয়ে থাকে। বিশেষ প্রয়োজনে যে মোটরযানের চারটি চাকায় (সামনের ও পিছনের) পাওয়ার সরবরাহ করা হয়, তাকে ফোর হুইল ড্রাইভ মোটরযান বলে।
৭০. প্রশ্ন: ফোর হুইল ড্রাইভ কখন প্রয়োগ করতে হয়?
উত্তর: ভালো রাস্তাতে চলার সময় শুধুমাত্র পেছনের দু-চাকাতে ড্রাইভ দেওয়া হয়। কিন্তু পিচ্ছিল, কর্দমাক্ত রাস্তায় চলার সময় চার চাকাতে ড্রাইভ দিতে হয়।
৭১. প্রশ্ন: টুলবক্স কী ?
উত্তর: টুলবক্স হচ্ছে যন্ত্রপাতির বক্স, যা মোটরযানের সঙ্গে রাখা হয়। মোটরযান জরুরি মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও মালামাল টুলবক্সে রাখা হয়।
৭২. প্রশ্ন: ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যতীত মোটরযান চালালে বা চালানো অনুমতি দিলে শাস্তি কী ?
উত্তর: অনধিক ৬ (ছয়) মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন (সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ধারা-৬৬)
৭৩. প্রশ্ন: নির্ধারিত শব্দমাত্রার অতিরিক্ত উচ্চমাত্রার কোনরূপ শব্দ সৃষ্টি বা হর্ণ বাজানো বা কোনো যন্ত্র, যন্ত্রাংশ বা হর্ণ মোটরযানে স্থাপন করলে শাস্তি কী?
উত্তর: তিনি অনধিক ৩ (তিন) মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং চালকের ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত হিসেবে দোষসূচক ১(এক) পয়েন্ট কর্তন হইবে (সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ধারা- ৮৮)।
৭৪. প্রশ্ন: সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী (ক) রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, (খ) ফিটনেস সার্টিফিকেট (গ) ট্যাক্স টোকেন ও (ঘ) রুটপারমিট ব্যতীত মোটরযান চালালে বা চালানোর অনুমতি দিলে শাস্তি কী ?
উত্তর:
(ক) ধারা-৭২ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি মোটরযান রেজিস্ট্রেশন ব্যতীত মোটরযান চালনা করলে অনধিক ৬ (ছয়) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন;
(খ) ধারা-৭৫ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি মোটরযানের ফিটনেস সনদ ব্যতীত বা মেয়াদউত্তীর্ণ ফিটনেস সনদ ব্যবহার করে মোটরযান চালনা করলে অনধিক ৬ (ছয়) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ২৫(পঁচিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।(গ) ধারা-৭৬ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি ট্যাক্স-টোকেন ব্যতীত বা মেয়াদউত্তীর্ণ ট্যাক্স-টোকেন ব্যবহার করে মোটরযান চালনা করলে অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।
(ঘ) ধারা-৭৭ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি রুট পারমিট ব্যতীত পাবলিক প্লেসে মোটরযান চালনা করলে অনধিক ৩ (তিন) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ২০ (বিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
৭৫. প্রশ্ন: সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মদ্যপ বা মাতাল অবস্থায় মোটরযান চালনার শাস্তি কী?
উত্তর: অনধিক ৩ (তিন) মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং চালকের ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত হিসাবে দোষসূচক ১ (এক) পয়েন্ট কর্তন হবে (সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ধারা-৯২)।
৭৬. প্রশ্ন: নির্ধারিত গতির চেয়ে অধিক বা দ্রুত গতিতে (over speed) মোটরযান চালনার শাস্তি কী ?
উত্তর: অনধিক ৩ (তিন) মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং চালকের ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত হিসাবে দোষসূচক ১ (এক) পয়েন্ট কর্তন হবে (সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ধারা-৮৭)।
৭৭. প্রশ্ন: ওভারলোডিং বা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে মোটরযান চালনার ফলে দুর্ঘটনায় জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের শাস্তি কী ?
উত্তর: অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ০৩ (তিন) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং আদালত অর্থদণ্ডের সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিকে প্রদানের নির্দেশ প্রদান করতে পারবে (সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ধারা-৯৮)।
৭৮. প্রশ্ন : কোনো মোটরযান সরকার নির্ধারিত মাত্রার অতিরিক্ত পরিবেশ দূষণকারী ধোঁয়া নির্গমন বা অন্য কোনো প্রকার নিঃসরণ বা নির্গমন করলে উক্ত মোটরযান চালক বা মালিক বা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তি কী?
উত্তর: অনধিক ৩ (তিন) মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং চালকের ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত হিসাবে দোষসূচক ১ (এক) পয়েন্ট কর্তন হবে (সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ধারা- ৮৯(১)।
৭৯. প্রশ্ন: ত্রুটিপূর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ বা নিষিদ্ধ ঘোষিত বা বিধি-নিষেধ আরোপকৃত বা সড়ক বা মহাসড়কে চলাচলের অনুপযোগী কোনো মোটরযান চালনা বা চালনার অনুমতি প্রদানের শাস্তি কী?
উত্তর: অনধিক ৩ (তিন) মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ২০ (বিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং চালকের ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত হিসাবে দোষসূচক ১ (এক) পয়েন্ট কর্তন হবে (সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ধারা- ৮৯(২)।
৮০. প্রশ্ন: গণপরিবহনে ভাড়ার চার্ট প্রদর্শন ও নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া দাবী বা আদায় করলে শাস্তি কী?
উত্তর: অনধিক ১ (এক) মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং চালকের ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত হিসাবে দোষসূচক ১ (এক) পয়েন্ট কর্তন হবে (সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ধারা- ৮০)।
৮১. প্রশ্ন: কোনো মহাসড়ক, সড়ক, ফুটপাত, ওভারপাস বা আন্ডারপাসে মোটরযান মেরামতের নামে যন্ত্রাংশ বা মালামাল রেখে বা দোকান বসিয়ে বা অন্য কোনোভাবে দ্রব্যাদি রেখে মোটরযান বা পথচারী চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে শাস্তি কী?
উত্তর: অনধিক ৩ (তিন) মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং চালকের ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত হিসাবে দোষসূচক ১ (এক) পয়েন্ট কর্তন হবে (সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ধারা-৯২)।
৮২. প্রশ্ন: মোটরযান রাস্তায় চলার সময় হঠাৎ ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেলে প্রথমে কী চেক করতে হবে ?
উত্তর: ফুয়েল বা জ্বালানি আছে কিনা তা চেক করতে হবে।
৮৩. প্রশ্ন: পেট্রোল ইঞ্জিন স্টার্ট করতে ব্যর্থ হলে কোন দুটি প্রধান বিষয় চেক করতে হয় ?
উত্তর:
(ক) প্লাগ পয়েন্টে ঠিকভাবে স্পার্ক হচ্ছে কিনা চেক করতে হয়;
(খ) কার্বুরেটরে পেট্রোল যাচ্ছে কিনা চেক করতে হয়।
৮৪. প্রশ্ন: ফুয়েল ও অয়েল বলতে কী বুঝায় ?
(খ) কার্বুরেটরে পেট্রোল যাচ্ছে কিনা চেক করতে হয়।
৮৪. প্রশ্ন: ফুয়েল ও অয়েল বলতে কী বুঝায় ?
উত্তর: ফুয়েল বলতে জ্বালানি অর্থাৎ পেট্রোল, অকটেন,সিএনজি, এলএনজি, ডিজেল ইত্যাদি বুঝায় এবং অয়েল বলতে লুব্রিকেটিং অয়েল বা লুব অয়েল বা মবিল বুঝায়।
৮৫. প্রশ্ন: লুব অয়েল (মবিল) এর কাজ কী ?
উত্তর: ইঞ্জিনের বিভিন্ন ওয়ার্কিং পার্টস (যন্ত্রাংশ) সমূহকে ঘুরতে বা নড়াচড়া করতে সাহায্য করা, ক্ষয় হতে রক্ষা করা এবং ইঞ্জিন পার্টসসমূহকে ঠান্ডা ও পরিস্কার রাখা মবিলের কাজ।
৮৬. প্রশ্ন: কম মবিল বা লুব অয়েলে ইঞ্জিন চালালে কী ক্ষতি হয়?
উত্তর: বিয়ারিং অত্যাধিক গরম হয়ে গলে যেতে পারে এবং পিস্টন সিলিন্ডার জ্যাম বা সিজড্ হতে পারে।
৮৭. প্রশ্ন: লুব অয়েল (মবিল) কেন এবং কখন বদলানো উচিত?
উত্তর: দীর্ঘদিন ব্যবহারে মবিলে ইঞ্জিনের কার্বন, ক্ষয়িত ধাতু, ফুয়েল, পানি ইত্যাদি জমার কারণে এর গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায় বিধায় মবিল বদলাতে হয়। মোটরযান প্রস্তুতকারক প্রদত্ত ম্যানুয়াল/হ্যান্ডবুকের নির্দেশ মোতাবেক নির্দিষ্ট মাইল/কিলোমিটার চলার পর মবিল বদলাতে হয়।
৮৮. প্রশ্ন: ইঞ্জিনে অয়েল (মবিল) এর পরিমাণ কিসের সাহায্য পরীক্ষা করা হয়?
উত্তর: ডিপস্টিক এর সাহায্যে।
৮৯. প্রশ্ন: টায়ার প্রেসার বেশি বা কম হলে কী অসুবিধা হয়?
উত্তর: টায়ার প্রেসার বেশি বা কম হওয়া কোনটিই ভালো নয়। টায়ার প্রেসার বেশি হলে মাঝখানে বেশি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, আবার টায়ার প্রেসার কম হলে দু-পাশে বেশি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। ফলে টায়ার তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়।
৯০. প্রশ্ন: কোন নির্দিষ্ট টায়ারের প্রেসার কত হওয়া উচিত তা কীভাবে জানা যায় ?
উত্তর: টায়ারের আকার (size), ধরণ (type) ও লোড (বোঝা) বহন ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে প্রস্তুতকারক কর্তৃক সঠিক প্রেসার নির্ধারণ করা হয়, যা প্রস্তুতকারকের হ্যান্ডবুক/ম্যানুয়ালে উল্লেখ থাকে।
৯১. প্রশ্ন: টায়ার রোটেশন কী?
উত্তর: বিভিন্ন কারণে মোটরযানের সবগুলো টায়ারের ক্ষয় সমহারে হয় না। মোটরযানের চাকাগুলোর ক্ষয়ের সমতা রক্ষার জন্য একদিকের টায়ার খুলে অপরদিকে কিংবা সামনের টায়ার খুলে পেছনে লাগানোকে অর্থাৎ টায়ারের স্থান পরিবর্তন করে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে লাগানোর পদ্ধতিকেই টায়ার রোটেশন বলে। এর ফলে টায়ারের আয়ু বহুলাংশে বেড়ে যায়। উল্লেখ্য, লোয়ার সাইজের স্পেয়ার চাকা কখনো সামনে লাগানো উচিত নয়।
৯২. প্রশ্ন: ব্যাটারির কাজ কী ?
উত্তর:
ক. ইঞ্জিনকে চালু করতে সহায়তা করা;
খ. পেট্রোল ইঞ্জিনের ইগনিশন সিস্টেমে কারেন্ট সরবরাহ করা;
গ. সকল প্রকার লাইট জ্বালাতে এবং মিটারসমূহ চালাতে সহায়তা করা;
ঘ. হর্ণ বাজাতে সাহায্য করা।
খ. পেট্রোল ইঞ্জিনের ইগনিশন সিস্টেমে কারেন্ট সরবরাহ করা;
গ. সকল প্রকার লাইট জ্বালাতে এবং মিটারসমূহ চালাতে সহায়তা করা;
ঘ. হর্ণ বাজাতে সাহায্য করা।
৯৩. প্রশ্ন: নিয়মিত ব্যাটারির কী পরীক্ষা করা উচিত ?
উত্তর: পানির লেভেল।
৯৪. প্রশ্ন: সময় ও প্রয়োজনমতো ব্যাটারিতে ডিস্টিল্ড ওয়াটার না দিলে কী হয় ?
উত্তর: ব্যাটারির ক্যাপাসিটি কমে যায় এবং প্লেট নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
৯৫. প্রশ্ন: ব্যাটারির টার্মিনাল হতে মরিচা দূর করা হয় কেন?
উত্তর: মরিচা সন্তোষজনক বৈদ্যুতিক সংযোগ বাধা দেয় এবং কালক্রমে টার্মিনালের ভিতর দিয়ে মরিচা পড়ে ও সম্পূর্ণ টার্মিনাল নষ্ট হয়ে যায় ।
৯৬. প্রশ্ন: মরিচা পরিষ্কার করার পর টার্মিনালে কী করা উচিত?
উত্তর: গ্রিজ লাগানো উচিত।
৯৭. প্রশ্ন: মোটরযানে ব্যবহৃত ব্যাটরির ভোল্টেজ কত থাকে?
৯৭. প্রশ্ন: মোটরযানে ব্যবহৃত ব্যাটরির ভোল্টেজ কত থাকে?
উত্তর: ৬ ভোল্ট এবং ১২ ভোল্ট থাকে। (বড় ট্রাকে এবং বাসে ২৪ ভোল্টের ব্যাটারিও ব্যবহৃত হয়ে থাকে)।
=0=
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এর ওয়েবসাইট: www.brta.gov.bd
0 Comments